বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড সাইফুল ইসলামকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সম্মেলনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ‘সবার জন্য শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই’, সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা না দেওয়া, ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি না করা এবং ছাত্ররাজনীতির আদর্শবাদী বিপ্লবী ধারাকে শক্তিশালী করা।
সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
তারা আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিক্ষার ওপর আক্রমণ এবং ক্রমাগত বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অধিকারও সংকুচিত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, শাসক দলগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এবং বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উগ্র ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিরুদ্ধে শিক্ষা, সংস্কৃতি, মনুষ্যত্ব, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষা, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখে আসছে। সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও একই ধারার গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রামেও সংগঠনটি সক্রিয় রয়েছে।
তারা বলেন, অগণিত নেতা-কর্মীর মেধা, শ্রম, রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্ররাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। পরিবর্তিত সময়ের বাস্তবতা ও নতুন প্রয়োজনকে সামনে রেখে ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলন থেকে সন্ত্রাসনির্ভর ও আদর্শহীন ছাত্ররাজনীতির বিপরীতে আদর্শবাদী ও বিপ্লবী ছাত্ররাজনীতির ধারা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সবার জন্য শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি বন্ধ রাখার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।