দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাউছার। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে দেশকে অচল করার কোনো চক্রান্তই সফল হতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সমসাময়িক শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ইসমাইল হোসেন কাউছার বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। লাখ লাখ শ্রমিকের ঘাম এবং হাজারো উদ্যোক্তার পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই খাত দেশের সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, একটি পরাজিত ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক চক্র পেছনের দরজা দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তারা নিরীহ শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে, বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে এবং উসকানি দিয়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পোশাক শ্রমিকরা এদেশের অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্তিপ্রিয় নাগরিক। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন। তারা কখনোই কারখানায় ভাঙচুর কিংবা অরাজকতা সমর্থন করেন না। তিনি আরো জানান এরমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। যারা আন্দোলনের নামে কারখানায় হামলা চালায়, সম্পদ বিনষ্ট করে কিংবা উৎপাদন ব্যাহত করার পাঁয়তারা করে, তারা শ্রমিকের বন্ধু নয়—বরং দেশের অর্থনীতির শত্রু। শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার এই ষড়যন্ত্র সচেতন শ্রমিক সমাজ এবং দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবেই প্রতিহত করবে।”
মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক দলের এই নেতা বলেন, “মালিক ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। কারখানা সুরক্ষিত থাকলে শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও রুটি-রুজি নিশ্চিত থাকবে। শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে তা আদায় করতে হবে নিয়মতান্ত্রিক ও আলোচনার মাধ্যমে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নয়। মালিক-শ্রমিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়েই সব সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।”
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দল সবসময় মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—নারায়ণগঞ্জসহ দেশের কোনো শিল্পাঞ্চলেই বহিরাগতদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ষড়যন্ত্রকারীদের যেকোনো অশুভ তৎপরতা রুখে দিতে আমাদের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের সাথে নিয়ে মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন।