আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিজয়ার করুণ সুরের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের দুর্গোৎসব।
পূজা নির্বিঘ্নে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মুসলিম সম্প্রদায়, সনাতন ধর্মাবলম্বী, পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি কার্তিক ঘোষ।
জানা গেছে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী এই মহোৎসবের। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিকতায় পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছিল সম্প্রীতির এক অনন্য আবহ।
উৎসবের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি কার্তিক ঘোষ বলেন, *”ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চিরায়ত মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে নারায়ণগঞ্জের মানুষ আবারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জেলার ২৪০টি মণ্ডপেই ভক্তরা পরম ভক্তি ও আনন্দের সাথে তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ আয়োজনের পেছনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক সতর্কতা এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”*
তিনি আরও বলেন, *”বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, প্রতিটি মণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের অক্লান্ত সহায়তার কারণেই কোথাও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য আমি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজসহ জেলার প্রতিটি স্তরের নাগরিকের প্রতি জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”*
কার্তিক ঘোষ আশা প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জের আবহমানকালের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আগামী দিনগুলোতেও অটুট থাকবে।