বর্তমান সরকারের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধৃষ্টতাপূর্ণ কটুক্তি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার খুনিদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক নেতাকর্মীদের উদ্যোগে শহরে এক বিশাল মশাল মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। সভা শেষে একটি বিশাল মশাল মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতাকর্মীরা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদ্য সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, “মাত্র ৬ মাস আগে দেশের জনগণ তাদের স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ক্রান্তিকালে সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের উচিত সরকারের পাশে দাঁড়ানো।”
বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, কিছু রাজনৈতিক দল দেশ পুনর্গঠনে সহযোগিতা না করে উল্টো কুৎসা রটনা ও ব্যক্তিগত কটুক্তি করে জাতিকে বিভক্ত করছে। তাদের এই আচরণ ফ্যাসিস্ট খুনিদের ফিরে আসার পথ সুগম করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি আবারও ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বা কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করে, তবে তার পূর্ণ দায়ভার এই বিরোধিতাকারীদেরই নিতে হবে।”
খোরশেদ আরও যোগ করেন, “আমরা কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাস করি না। তবে অযথা বিরোধিতা বন্ধ করে দেশ গড়ার কাজে হাত দিন। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ভাই-বোনদের রক্ত ঝরিয়েছে, সেই খুনিদের অবিলম্বে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে—হাজী শাহীন, নুরুল হক চৌধুরী দিপু, জয়নাল আবেদীন, আনোয়ার মাহমুদ বকুল, মনির সর্দার, মমতাজ উদ্দিন মন্তু, নাজমুল কবির নাহিদ, রানা মুজিব, শওকত খন্দকার, আমির হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, ইকবাল হোসেন, জুয়েল রানা, তুষার আহমেদ, সুমন ভুইয়া, আক্তার হোসেন, দুলাল মিয়া, নুরুজ্জামান, রানা মুন্সি, মোঃ মুসা, জুলহাস, মোঃ মিঠু, নূরুল্লাহ খন্দকারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।