নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে হিমেল নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীর অতর্কিত হামলায় নাহিদ (২৩) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে নবীগঞ্জ কামাল উদ্দিনের মোড় এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে নাহিদ বাসা থেকে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হন। কামাল উদ্দিনের মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় মো. হিমেল (২৭) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করেন। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। নাহিদ তার ব্যবহৃত ফোনের সিমটি ফেরত চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডান পায়ে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় নাহি প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত হিমেল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশের সোর্স ও ফরমা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মাদক ব্যবসা ও ছিনতাই তার মূল পেশা হলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে সে বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত নাহিদের পরিবার জানায়, হামলার পর থেকেই আসামিরা মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। পুনরায় হামলা চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ ঘটনায় আহত নাহিদের বোন অন্তি বাদী হয়ে প্রধান আসামি হিমেলের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।