বিনোদনের নামে হাতে ‘বন্দুক’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে শহরের ২ নম্বর রেল গেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বন্দর বাজার এলাকার মোঃ শামীম আহম্মেদের ছেলে মোঃ লিমন তোহা (২২) এবং বন্দর ফায়ার সার্ভিস গলি এলাকার মোঃ স্বপন মোল্লার ছেলে মোঃ ইয়াছিন মোল্লা (২৩)।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্ক এলাকায় দুই তরুণকে শটগান ও এসএমজি সদৃশ অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি দেখে সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নজরে আসলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের আইসিটি শাখার এসআই আফজাল শাহীন ও তার বিশেষ টিম ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ২৮ আগস্ট রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোঃ সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ২ নম্বর রেল গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিমন ও ইয়াছিনকে আটক করে।
তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা শটগান ও এসএমজি উদ্ধার করা হয়, যা দেখতে হুবহু আসল আগ্নেয়াস্ত্রের মতো। খেলনা অস্ত্র দিয়ে মহড়া দিয়ে জনমনে ভীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২’ এর ৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “বিনোদনের নামে পথচারী বা শিশুদের ভয় দেখানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খেলনা অস্ত্র হলেও এটি ব্যবহার করে জনমনে ভীতি তৈরি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গ্যাং কালচার’ বা সস্তা জনপ্রিয়তার নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সহায়ক হবে।
—