ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের ৬-দফা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান।
সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রফিউর রাব্বি। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ এবং সামাজিক সংগঠন ‘সম্মিলনী’র সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
সভাপতির বক্তব্যে রফিউর রাব্বি দেশের জ্বালানি সংকটের জন্য আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “দেশে সরকার বদল হলেও আমলাদের চরিত্র বদলায় না। এই আমলারাই বিভিন্ন সরকারকে জনবিরোধী ও দেশবিরোধী চুক্তি করতে বাধ্য করেন। দেশে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সন্ধান থাকলেও আমলাদের পরামর্শে তা উত্তোলন না করে খাতটিকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।”
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিভিন্ন পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বোয়িং বিমান, বছরে ৭ লাখ মেট্রিক টন গম, ১২৫ কোটি ডলারের সয়াবিন তেল এবং ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কেনার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। চুক্তির ১৩১টি শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হলেও যুক্তরাষ্ট্র মানবে মাত্র ৬টি। এমনকি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও এই ধরণের চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।”
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা বললেও এই অসম চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। সমাবেশে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন এবং জনগণের সাথে সম্পাদিত ৬-দফা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের এই দিনে বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে বিডিআর ও পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ রক্ষায় এবং জনবিরোধী যেকোনো চুক্তি বাতিলের দাবিতে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।