“মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস হলে জেলা পুলিশ এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), নারায়ণগঞ্জের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
“শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)”-এর আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল শব্দদূষণের ভয়াবহতা এবং এটি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ।
প্রশিক্ষণ সেশনে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শব্দদূষণের বিভিন্ন উৎস এবং মানবদেহ ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা কীভাবে হাইড্রোলিক হর্ন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা; বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো: মাহবুবুর রহমান এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম মেহেদী হাসান।
বক্তারা বলেন, শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক। এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শহরবাসীকে শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে পুলিশ ও বিআরটিএ’র সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং নির্ধারিত গতিসীমায় যানবাহন চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বিআরটিএ প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও জোরালো অভিযান পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।