নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে মারধরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে ৫ জনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া অপপ্রচারকে ‘নোংরা রাজনীতি’ ও ‘ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
মশিউর রহমান রনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে এখন এমন এক নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে যে, কে কাকে কীভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাজনীতি থেকে ‘আউট’ করে দেবে—সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। আমার বিরুদ্ধেও সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ হিসেবে এই ঘটনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রনি জানান, গত ৩ জুন জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আকিল উদ্দিন ভূঁইয়া সবার সামনে ‘গত ১৭ বছর কই ছিলেন’—এমন উসকানিমূলক কথা বললে একটি তর্কের সৃষ্টি হয়। তবে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সেখানেই মিমাংসা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রনির অজান্তেই কিছু অতিউৎসাহী কর্মী আকিল উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়।
মশিউর রহমান রনি বলেন, “আমি ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। যখনই জানতে পেরেছি আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দেইনি। হামলাকারী ৫ জনকে চিহ্নিত করে তাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ-পদবী থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছি।”
বহিষ্কৃতরা হলেন— এনায়েতনগর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা মামুন, কাওসার, শ্রী নিতাই, মো. দেলোয়ার হোসেন এবং আড়াইহাজারের সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক রিপন।
রনি আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই বিষয়টি নিয়ে সালিসি বৈঠক করেছেন এবং অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন, যাতে ভুক্তভোগী নেতা আকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নিজেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবকিছু মিমাংসা হওয়ার পরও কেন একটি কুচক্রী মহল এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে?”
নিজের রাজনৈতিক ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে যুবদল এই নেতা বলেন, “আমি বিগত ১৭ বছর রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, শত শত মামলার শিকার হয়ে মাঠে ছিলাম। আজ যখন দল ও রাজনীতিতে তৃণমূলের সমর্থনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় এসেছে, তখনই আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এসব ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে আমাকে দমানো যাবে না।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমার শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও নারায়ণগঞ্জবাসীর ভালোবাসা। কোনো সাজানো নাটক বা কুচক্রী মহলের চক্রান্ত আমার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”