আসন্ন জাতীয় বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, স্বল্পমূল্যে আবাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট’ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব। সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ তৈরি পোশাক শিল্প থেকে আসলেও এই শিল্পের কারিগর শ্রমিকরা আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়ের চাপে শ্রমিকরা দিশেহারা। অথচ জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, “রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম খাদ্য সংকট ও বাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা পাবে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য সুলভে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
শ্রমখাতের নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, “শ্রমিকদের জন্য নীতি বা আইন প্রণয়নের সময় প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয় না। ফলে কাগজে-কলমে অনেক কিছু থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরা তার সুফল পায় না। শ্রমখাতের সকল পর্যায়ে কার্যকর শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা আসন্ন বাজেটে শ্রমিকবান্ধব বরাদ্দ প্রদান এবং দুর্ঘটনা, মাতৃত্ব ও বেকারত্বকালীন বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।