নারায়ণগঞ্জ মহানগরকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি এবং ১০ জন উপদেষ্টা নিয়ে মোট ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাসুদ রানা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নবগঠিত কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা নারায়ণগঞ্জ মহানগরে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জনগণের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ দমনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল শক্তি জনগণ। পুলিশ একা নয়, জনতার সহযোগিতা নিয়েই আমরা নারায়ণগঞ্জকে নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরও কার্যকর হবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, জনগণ ও পুলিশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতা সভা ও তথ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা জানান।
কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুবসমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার উদ্যোগ জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।