নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আবারো আলোচনায় এসেছেন মো. সেলিমের ছেলে ফাহিম। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও, গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় ফিরে পুনরায় মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ফাহিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। ৫ই আগস্টের পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গা ঢাকা দেন। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে এলাকায় ফিরে পুনরায় আস্তানা গড়ে তুলেছেন এবং পুরানো মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ফাহিম এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফাহিমের একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই ফাহিমকে আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এলাকাবাসী জানান, শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, এলাকায় ফের কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন ফাহিম। তার নেতৃত্বে একদল কিশোর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ফাহিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
একই এলাকার অনুসন্ধানে কোকিলের বাগের হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন তুহিন (মিতা)-এর নামও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, নাসির উদ্দিন তুহিন (যিনি আরিফের শ্বশুর হিসেবে পরিচিত) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যার একটি মামলার আসামি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকার অস্থিরতার সুযোগে এমন অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তিই পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
কোতালেরবাগ ও বউবাজার এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কোনো প্রভাবশালী মহলের তোয়াক্কা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফাহিমসহ মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী মনে করেন, মাদকমুক্ত সমাজ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।