বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে  ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ আগুন: মহানগরী আমীরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ  নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ, ডিপিডিসিতে স্মারকলিপি সংবাদ যদি বস্তুনিষ্ঠ হয়, তবেই তা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনে: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন ফতুল্লায় পুলিশের বড় সাফল্য: ১৫১০ পিস ইয়াবাসহ ‘হোটেল মাসুদ’সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক রাকিবের খোজঁ নিলেন জামায়াত আমীর আব্দুল জব্বার পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়তে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভা এনডিএ চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের ফুলেল শুভেচ্ছা নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকতা, আইন ও নাগরিক আন্দোলনে মাহবুবুর রহমান মাসুমের অবদানের ৪ দশক নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট জেলার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর: নারায়ণগঞ্জে মাঠের সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ! 

রূপালী ইলিশের দেশে একদিন: মেঘনা-ডাকাতিয়ার বুকে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪৪ 🪪
নদীর কলতান, রূপালী ইলিশের সুবাস আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী ঘেরা চাঁদপুর যেন এক স্বপ্নের শহর। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা একপাশে ঠেলে গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) এক দল তরুন রিপোর্টার ভ্রমণপিপাসু মেতে উঠেছিলেন এই রূপালী শহর আবিষ্কারের নেশায়। কাক ডাকা ভোরে শুরু হওয়া সেই যাত্রার গল্প যেন কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়।
​ভ্রমণের দিনটিতে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই ছুটে চলা লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে। ঘাটে পৌঁছেই সেরে নেওয়া হলো রাজকীয় ‘নবাবী নাস্তা’। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। ঘাট ছেড়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ডানা মেলল বিলাসবহুল দ্বিতল লঞ্চ।
​লঞ্চের ডেকে আরামদায়ক সিটে বসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের চেনা শীতলক্ষ্যা নদী পার হতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল দিগন্ত বিস্তৃত মেঘনা। মেঘনার উত্তাল ঢেউ আর রোদের সাথে মেঘের ছায়া-খেলার দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। নদী পারের মৃদু বাতাস আর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মুহূর্তেই জুড়িয়ে দিচ্ছিল চোখ ও মন।
​যাত্রাপথে লঞ্চটি একে একে পেছনে ফেলে যাচ্ছিল নদীপারের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘাট—ষাটনল, মোহনপুর এবং এখলাসপুর। প্রতিটি ঘাটে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে তিন ঘন্টার রোমাঞ্চকর নদীপথ পাড়ি দিয়ে ভ্রমনপিপাসুরা এসে পৌঁছান কাঙ্ক্ষিত সেই ‘চাঁদের দেশে’ অর্থাৎ চাঁদপুরে।
​চাঁদপুর ঘাটে পা রাখতেই সবার প্রথমে স্বাগত জানায় শহরের ঐতিহ্যবাহী বিশাল এক ইলিশ মাছের ভাস্কর্য। ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরের এই প্রতীকী ভাস্কর্যটি এক নজর দেখেই ভ্রমণকারীরা ছুটে চলেন শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ—তিন নদীর মোহনায়। ​পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর এই মিলনস্থল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সেখানে দাঁড়িয়ে নদীর তীব্র স্রোত আর বিশালতা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় যেকোনো পর্যটকের।
​চাঁদপুরে এসে ইলিশ খাওয়া হবে না, তা তো হতেই পারে না! দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল একদম টাটকা আস্ত ইলিশ। চোখের সামনেই সেই আস্ত ইলিশ কেটে টুকরো করে মচমুচে করে ভাজা হলো। সাথে গরম ভাতে যুক্ত হয়েছিল মুখরোচক বেগুন ভাজা। মেঘনার পাড়ে বসে এই টাটকা ইলিশ ভাজার স্বাদ ভ্রমণকে পূর্ণতা দিয়েছে।
​খাবার দাবার শেষ করে যায়যায়দিনের রিপোর্টার নজরুল ইসলাম, বাংলার চোখের সাইফুল ইসলাম, বাংলার শিরোনামের আল মামুন ও বাংলা বাজার পত্রিকার ইউসুফ আলী প্রধানের পরবর্তী গন্তব্য ছিল মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র। নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই পর্যটন কেন্দ্রের মনোরম পরিবেশ, নান্দনিক ডিজাইন এবং বসার চমৎকার ব্যবস্থা, মেঘনার স্বচ্ছ শীতল জলে স্নান ভ্রমণ ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়। বিকেলে নদীর বুকে সূর্যাস্তের আভা দেখতে দেখতেই শেষ হয় আনন্দময় এই চাঁদপুর ভ্রমণের দিনটি।
​সব মিলিয়ে, মাত্র একদিনের এই সংক্ষিপ্ত ট্যুরটি মেঘনা-ডাকাতিয়ার জলরাশি আর ইলিশের স্বাদে স্মৃতির পাতায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
লেখক: ইউসুফ আলী প্রধান
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102