রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বন্দর জাঙ্গাল ন্যায় নীতি আদর্শ সংগঠনের ১ম বর্ষপূর্তিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কোতালেরবাগে ফের বেপরোয়া ফাহিম: মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক রূপালী ইলিশের দেশে একদিন: মেঘনা-ডাকাতিয়ার বুকে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা কবি ও সাংবাদিক রণজিৎ মোদকের ৭২তম জন্মদিন উদযাপন কিশোর গ্যাং লিডার সিজান ইস্যু: বিভ্রান্তিকর তথ্যের অবস্থান পরিষ্কার করলো আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন নারায়ণগঞ্জে বিজ্ঞানী মাদাম কুড়ির ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: মানবকল্যাণে তাঁর ত্যাগ চিরস্মরণীয় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নাসিক ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ডবাসী নগরীর গলাচিপায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলন: যৌথ অভিযানে নামছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১১ দলীয় ঐক্যর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  যারা জুলাইকে বিচ্ছন্ন করে দিতে চায় সময়ের ব্যবধানে তারাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে : আবদুল জব্বার

রূপালী ইলিশের দেশে একদিন: মেঘনা-ডাকাতিয়ার বুকে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৯ 🪪
নদীর কলতান, রূপালী ইলিশের সুবাস আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী ঘেরা চাঁদপুর যেন এক স্বপ্নের শহর। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা একপাশে ঠেলে গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) এক দল তরুন রিপোর্টার ভ্রমণপিপাসু মেতে উঠেছিলেন এই রূপালী শহর আবিষ্কারের নেশায়। কাক ডাকা ভোরে শুরু হওয়া সেই যাত্রার গল্প যেন কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়।
​ভ্রমণের দিনটিতে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই ছুটে চলা লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে। ঘাটে পৌঁছেই সেরে নেওয়া হলো রাজকীয় ‘নবাবী নাস্তা’। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। ঘাট ছেড়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ডানা মেলল বিলাসবহুল দ্বিতল লঞ্চ।
​লঞ্চের ডেকে আরামদায়ক সিটে বসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের চেনা শীতলক্ষ্যা নদী পার হতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল দিগন্ত বিস্তৃত মেঘনা। মেঘনার উত্তাল ঢেউ আর রোদের সাথে মেঘের ছায়া-খেলার দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। নদী পারের মৃদু বাতাস আর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মুহূর্তেই জুড়িয়ে দিচ্ছিল চোখ ও মন।
​যাত্রাপথে লঞ্চটি একে একে পেছনে ফেলে যাচ্ছিল নদীপারের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘাট—ষাটনল, মোহনপুর এবং এখলাসপুর। প্রতিটি ঘাটে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে তিন ঘন্টার রোমাঞ্চকর নদীপথ পাড়ি দিয়ে ভ্রমনপিপাসুরা এসে পৌঁছান কাঙ্ক্ষিত সেই ‘চাঁদের দেশে’ অর্থাৎ চাঁদপুরে।
​চাঁদপুর ঘাটে পা রাখতেই সবার প্রথমে স্বাগত জানায় শহরের ঐতিহ্যবাহী বিশাল এক ইলিশ মাছের ভাস্কর্য। ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরের এই প্রতীকী ভাস্কর্যটি এক নজর দেখেই ভ্রমণকারীরা ছুটে চলেন শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ—তিন নদীর মোহনায়। ​পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর এই মিলনস্থল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সেখানে দাঁড়িয়ে নদীর তীব্র স্রোত আর বিশালতা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় যেকোনো পর্যটকের।
​চাঁদপুরে এসে ইলিশ খাওয়া হবে না, তা তো হতেই পারে না! দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল একদম টাটকা আস্ত ইলিশ। চোখের সামনেই সেই আস্ত ইলিশ কেটে টুকরো করে মচমুচে করে ভাজা হলো। সাথে গরম ভাতে যুক্ত হয়েছিল মুখরোচক বেগুন ভাজা। মেঘনার পাড়ে বসে এই টাটকা ইলিশ ভাজার স্বাদ ভ্রমণকে পূর্ণতা দিয়েছে।
​খাবার দাবার শেষ করে যায়যায়দিনের রিপোর্টার নজরুল ইসলাম, বাংলার চোখের সাইফুল ইসলাম, বাংলার শিরোনামের আল মামুন ও বাংলা বাজার পত্রিকার ইউসুফ আলী প্রধানের পরবর্তী গন্তব্য ছিল মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র। নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই পর্যটন কেন্দ্রের মনোরম পরিবেশ, নান্দনিক ডিজাইন এবং বসার চমৎকার ব্যবস্থা, মেঘনার স্বচ্ছ শীতল জলে স্নান ভ্রমণ ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়। বিকেলে নদীর বুকে সূর্যাস্তের আভা দেখতে দেখতেই শেষ হয় আনন্দময় এই চাঁদপুর ভ্রমণের দিনটি।
​সব মিলিয়ে, মাত্র একদিনের এই সংক্ষিপ্ত ট্যুরটি মেঘনা-ডাকাতিয়ার জলরাশি আর ইলিশের স্বাদে স্মৃতির পাতায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
লেখক: ইউসুফ আলী প্রধান
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102