নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে জাফরুল হাসান লিসান নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, লিসান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৬ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় লিসান তার নিজস্ব জমিতে দোকান নির্মাণ করতে যান। এ সময় মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। লিসান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে লিসান প্রতিবাদ করলে আনোয়ার হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে লিসানের মাথায় ও শরীরে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা (খানপুর) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার একজন পেশাদার অপরাধী। ২০২৫ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত একটি ডাকাতি মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এলাকায় তার এমন তাণ্ডবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান লিসান বলেন, “আমার নিজের জায়গায় দোকান করতে গেলে আনোয়ার ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সে আমাকে মারধর করে। আমি একজন ছাত্র হয়েও তার হাত থেকে রেহাই পাইনি। আমি এই সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে আহত লিসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।