নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেছেন, “মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অতি শীঘ্রই সদর উপজেলার কুতুবপুরে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে। এখানে কাউকেই কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।”
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুতুবপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা এবং এক পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি নিশ্চিন্তপুর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহজাহান ও আলী আরশাদ বাহিনীর সদস্যরা একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীদের শ্লীলতাহানি ও ছয়জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন যাতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহজাহান ও আলী আরশাদ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।
অপরাধীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পুলিশ সুপার বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই—যারা মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্য, আপনাদের জন্য এখনো সময় আছে। অপরাধের পথ ছেড়ে ভালো পথে ফিরে আসুন। নতুবা আপনাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আপনাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. শামীম আহমেদ, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলম এবং পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসপির এই ঘোষণার পর কুতুবপুর এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন, পুলিশের এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি দ্রুত অপরাধমুক্ত হবে।