নারায়ণগঞ্জে সাধারণ গ্রাহকদের তীব্র আপত্তি ও জনমত উপেক্ষা করে ডিপিডিসি কর্তৃক জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “কোনো ধরনের আগাম নোটিশ, জনমত যাচাই কিংবা গণশুনানি ছাড়াই ডিজিটাল ব্যবস্থার নামে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পদ্ধতির ফলে সাধারণ গ্রাহকরা চরম কারিগরি জটিলতা, অসহনীয় ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। আধুনিকায়নের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা ও হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না।”
বক্তারা আরও জানান, এর আগে প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধন করা হয়েছে এবং ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ জনগণের দাবির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন এলাকায় মিটার স্থাপনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তারা সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে গণশুনানি ছাড়া জোরপূর্বক মিটার স্থাপনের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বন্ধ না হলে নারায়ণগঞ্জে গণঅসন্তোষ ও বড় ধরনের আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, চাষাঢ়া পঞ্চায়েতের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমন, শ্রমিক নেতা মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন এলাকার পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির গ্রাহকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনে বলেন, “নাগরিকদের এই স্মারকলিপি আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। একইসঙ্গে প্রিপেইড মিটার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও ভোগান্তির বিষয়ে ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।”
সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, যতদিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত না হয় এবং গণশুনানির মাধ্যমে গ্রাহকদের ভীতি দূর না হয়, ততদিন এই কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।