বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তি নিরসন, প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে আগের মিটার পুনর্বহাল, বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে গঠিত হয়েছে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত হোসেন আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট এই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন মো. শওকত হোসেন আহমেদ (লালমনিরহাট)। এছাড়া উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্য সদস্যরা হলেন নীলফামারীর জয়নাল আবেদীন এবং নারায়ণগঞ্জের এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল (নারায়ণগঞ্জ) এবং সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ (রংপুর)। এছাড়াও কমিটিতে ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৩ জন কার্যকরী সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তোপখানা রোডস্থ আ ফ ম মাহবুবুল হক মিলনায়তনে।
কমিটির উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো: দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির কারণ প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে পূর্বের মিটার ফেরত দেওয়া, বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস করা এবং গ্রাহক অধিকারের পক্ষে আন্দোলনকারীদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত ব্যয়, মেইনটেনেন্স, কর্মচারীদের বেতন এবং অপচয়-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, বিদ্যুৎ খাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের চক্রান্ত প্রতিরোধ করা এবং গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দুই দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন সকাল ১১টায় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং দুপুর ১২টায় ঢাকার বিদ্যুৎ ভবন প্রাঙ্গণে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বর্তমানে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও শোষণের শিকার হচ্ছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহকদের অধিকার আদায়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করে যাবে।
কমিটির নেতৃবৃন্দরা হলেন: আহ্বায়ক: এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল,সদস্য সচিব:এড. পলাশ কান্তি নাগ, যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ: অধ্যাপক আ.ফ.ম রাজিবুল আলম ইভান, গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব, হাসান তৌহিদ, আশরাফুল ইসলাম নিপ্পন, এড. সালাউদ্দীন বিশ্বাস, এড. শামসুন্নাহার লাভলী, আব্দুল জব্বার সরকার, মুত্তাকিন খান শামিম, মাহফুজ হোসেন, আব্দুল আকবার বিন আফছার, গোলাম রব্বানী মুসা, হাজী রমজানুর রশিদ এবং আবেদ হোসেন পলাশ।