বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেই ২০০ গজ এলাকায় মশক নিধন: নাসিক প্রশাসক নির্বাচনের আগেই নারায়ণগঞ্জে বাকি ৩৬ সরকারি অস্ত্র উদ্ধারের আশা ডিসির সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে মতবিনিময় সভা মাদক আর বাল্যবিবাহ গোটা সমাজটাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে: ইন্সপেক্টর নূরুল ইসলাম হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে সোনারগাঁয়ের শফিকুল ইসলাম জামী ও ইউসুফ মাহমুদ দুর্গাপূজায় নারায়ণগঞ্জে ৭৫০ পুলিশ, নিরাপত্তায় থাকবে বিশেষ টহল টিম বন্দরে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন, জনসেবার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি সোনারগাঁয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এশিয়ান প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন মীম শরৎ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহাগ

নারায়ণগঞ্জ ডাকঘরে সামিয়া ইসলামের ‘অজেয়’ সাম্রাজ্য, এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬৯ 🪪

সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত বা তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর প্রধান ডাকঘরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। একজন দৈনিক ভিত্তিক (ইডি) কর্মচারী হয়েও সামিয়া ইসলাম যেভাবে পুরো একটি প্রধান ডাকঘর নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পাহাড়সম অভিযোগের পরও ‘বহাল তবিয়তে’ আছেন, তা এখন আলোচিত। প্রশ্ন উঠেছে— সামিয়ার এই খুঁটির জোর কোথায়?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, যোগদানের পর থেকেই সামিয়া ইসলাম ডাকঘরটিকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। একজন ডেইলি বেসিস কর্মচারীর কাজ যেখানে সুনির্দিষ্ট, সেখানে তিনি প্রেষণের দোহাই দিয়ে হেল্প ডেস্ক দখল করে বসে আছেন। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ফরম পূরণ থেকে শুরু করে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো বা মৃত দাবি নিষ্পত্তির মতো স্পর্শকাতর কাজেও তিনি ‘ফি’ আদায় করছেন। সরকারি সেবা যেখানে জনকল্যাণমূলক হওয়ার কথা, সামিয়ার সিন্ডিকেটের কারণে তা এখন ‘চুক্তিনির্ভর’ হয়ে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর পোস্ট অফিসের বর্তমান কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সামিয়ার যাবতীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে কিছু  কর্মকর্তাদের পরোক্ষ প্রশ্রয়। লেটার হেড রাইটারদের লিখিত অভিযোগ কিংবা সহকর্মীদের অর্থ আত্মসাতের স্বীকারোক্তির পরও কেন সামিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই নীরবতা কি কেবলই অদক্ষতা, নাকি এর পেছনে কোনো বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অংশীদারিত্ব রয়েছে— সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।

সামিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো তিনি নিজ দপ্তরের সহকর্মীদেরও ছাড় দেননি। স্থায়ী চাকরি বা বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া কেবল দাপ্তরিক অপরাধ নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ। সালিশি বৈঠকে টাকা কথা স্বীকার করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতার দোহাই দিয়ে তিনি এক ধরনের ‘ভীতি’ তৈরি করে রেখেছেন, যা সাধারণ কর্মচারীদের কণ্ঠরোধ করে রেখেছে।

ডাক বিভাগ বর্তমানে আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে একজন সাধারণ কর্মচারীর কারণে পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া কাম্য নয়। ভুক্তভোগীদের মতে, সামিয়া ইসলামের মতো ব্যক্তিদের দাপট বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ সরকারি ডাকসেবার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা এবং তার দুর্নীতির ভাগীদারদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

সামিয়া ইসলাম কোনো শক্তিশালী মহলের আর্শীবাদপুষ্ট না হলে এতো বড় দুঃসাহস দেখানোর কথা নয়। এখন দেখার বিষয়, ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ‘ওপেন সিক্রেট’ অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেন, নাকি সামিয়া ইসলামের এই ‘অজেয়’ সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

এই ডাক বিভাগের গ্রাহকেরা এখন তাকিয়ে আছে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের দিকে। দুর্নীতিমুক্ত ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হলে এই সিন্ডিকেট ভাঙার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102