নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে মো. সজীব (৩২) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মামলার ১ নম্বর আসামি নূর হোসেন ইকেল (৪০) এবং তার ছেলে ২ নম্বর আসামি মো. আপন (২০)।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ৩১ আগস্ট (সোমবার) সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১:৫৫ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ধনকুন্ডা ক্যানেলপাড়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সজীবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সজীব গুরুতর জখম হলে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা আক্তার শিরিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব তারেক আল মেহেদী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান ও আইসিটি শাখার সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে গত ৩০ আগস্ট রাত ৭:৪০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানার নন্দলালপুর এলাকা থেকে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর মদিনাবাগ খালপাড় এলাকার খালের পানির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।