গ্রেপ্তাররা হলেন মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০) ও মো. জামির হোসেন (৫৭)। শাহিনুর ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি কাঁচপুর উত্তরপাড়ায় আলতু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। অপর আসামি জামির হোসেন কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ছাহাদ আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ সোনাপুর জালালাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পূর্ব পাশে একটি ডোবা থেকে সাদা প্লাস্টিকের মুখ বাঁধা বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইয়ুব হোসেনের বলে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দিপংকর ঘোষের তত্ত্বাবধানে সোনারগাঁও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. শাহিন ও জামিলসহ আরও কয়েকজন আইয়ুব হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও অর্থের বিনিময়ে শাহিনকে ব্যবহার করে আইয়ুবকে তার ভাঙারির দোকানে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহিনুর ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে সোনারগাঁও থানা পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।