পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। একই সঙ্গে সেবার পরিধি বাড়াতে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (নাডা) বর্তমান ভৌগোলিক সীমানা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী। এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত একটি ‘স্পেশাল মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া নাডার জন্য যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়—সেটি পর্যালোচনা চলছে। আমাদের মূল ও একমাত্র উদ্দেশ্য হলো নগরবাসী যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য আধুনিক নাগরিক সেবা পান।”
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রথম অধিবেশনেই নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিকল্পিত আবাসন এবং সেবামূলক কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো। আজ কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হলো।”
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের সমন্বয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “রাজউক ও নাডা দুটিই সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। যেখানে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ বেশি জড়িত থাকবে, সরকার স্বভাবতই সেই দিকটিকে অগ্রাধিকার দেবে। প্রশাসনিক যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করা হচ্ছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে রাজউকের প্লট বিক্রির সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া হয়নি; এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গৃহীত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে এবং পুরো সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিশাল কর্মএলাকার তুলনায় রাজউকের জনবল সংকট থাকায় সেবাদানে গতি আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সে কারণেই সরকার গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। পৃথক ও সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীরা এখন আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সেই সাথে সকল নাগরিক সেবাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দাপ্তরিক হয়রানি বন্ধ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।