মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত ‘দাসত্বের’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ এবং ক্রমবর্ধমান খুন-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে নারায়ণগঞ্জে পথসভা করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেলগেট এলাকায় বাসদের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বাসদ জেলা বর্ধিত ফোরামের সদস্য হাসনাত কবির এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমীন সোহাগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন ও সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে দেশকে নতজানু করার প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মার্কিনীদের সাথে এই অসম ও দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারও সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই গোলামী চুক্তি বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।”
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, “লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এই কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো দেশকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিকভাবেও গভীর সংকটে নিপতিত করা। এই চুক্তি বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করতে অতীতের মতো আবারও জনগণকে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবে দেশীয় শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা।
নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “শহরে এখন এক ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। যত্রতত্র ছিনতাই হচ্ছে, আর বাধা দিলে খুন করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে বেড়েছে। মাদকের ভয়াবহতা ও মাদক কারবারিদের অন্তর্কোন্দল জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অথচ এসব দমনে প্রশাসনের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।”
অবিলম্বে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পথসভায় বাসদ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।