চিরকুমার এই গুণী সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছোট ভাই মিলন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর একপর্যায়ে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তাঁর বোন তাঁকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তিনি চিরবিদায় নেন। এর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকতায় একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন হাফিজুর রহমান মিন্টু। দৈনিক ইনকিলাবের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আমৃত্যু স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ও পেশাগত উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
তৃণমূল সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। সে সময় তাঁকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও এক লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
প্রবীণ এই সাংবাদিকের প্রয়াণে নারায়ণগঞ্জের সংবাদ অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।