নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, নারীদের শ্লীলতাহানি এবং ব্যাপক লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুন সকালে ফতুল্লা মডেল থানাধীন শাহী মহল্লা এলাকায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিগ্রাসী চক্র দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন গত ৫ জুন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শাহী মহল্লা (মায়ের দোয়া কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন) এলাকায় তাদের পৈত্রিক ও বসতবাড়িতে মো. শাহজাহান (৫৬), মো. আলী আরশাদ (৫৭), নয়ন (৪০), মো. সোহাগ (৫০) ও অনন্যাসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, লোহার রড ও ধারালো রামদা নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে।
সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকেই পরিবারের নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আলমের ভাতিজা সাজেশের স্ত্রী নিলি (২২) এই আচরণের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা রামদা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত শুরু করে। এতে আলমের ভাইয়ের ছেলে নিহার (২১) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। এছাড়া রোকসানা আক্তার (৪৫), নিপি (২২), লায়লা আক্তার (৩৮) এবং রাজন (৩৮) মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলা চলাকালীন সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। এছাড়া প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার বাজারমূল্য প্রায় ৬২ হাজার টাকা) এবং অনার (Honor X6), স্যামসাং ও ওয়ালটন ব্র্যান্ডের দামী তিনটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এই ঘটনায় গত ৬ জুন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-২০)। তবে মামলার পর আসামিরা গ্রেফতার না হয়ে উল্টো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ করা হয়, আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। ফলে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চিহ্নিত এই সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। একটি নিরীহ পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।