নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর।
সংগঠনটি মনে করে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক শহর গড়ার অপরিহার্য শর্ত। কারণ ফুটপাত হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান; এটি দখল হয়ে গেলে নগর জীবনে সৃষ্টি হয় যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সমন্বয়কারী মোঃ বিপ্লব খাঁন এক বিবৃতিতে বলেন, বাস্তবতা হলো—যে ফুটপাতে মানুষের হাঁটার কথা, সেই ফুটপাত আজ বিভিন্ন চৌকি, স্টল, যানবাহন ও অস্থায়ী স্থাপনায় দখল হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এই দখল একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, এখানে শুধু ‘হকার উচ্ছেদ’ নয়—ফুটপাতকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা জরুরি। এটি কোনো ব্যক্তি বা পেশার বিরুদ্ধে অভিযান নয়; বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার—নিরাপদে হাঁটার অধিকার—রক্ষার একটি ন্যায্য পদক্ষেপ।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হকার ও অটোচালকরা এই শহরেরই শ্রমজীবী মানুষ। তাদের জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজন একটি তথ্যনির্ভর, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক নগর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
সমস্যার মূল কারণ (ডাটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ):
• অনিয়ন্ত্রিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত লাইসেন্স ব্যবস্থা
• নির্দিষ্ট রুট, সময় ও জোনিং নীতির অভাব
• বিকল্প জীবিকার সীমাবদ্ধতা
• প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি
• দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার অভাব
বাস্তবসম্মত সমাধান (৩ ধাপে কার্যকর পরিকল্পনা):
ধাপ–১ (প্রথম ৩ মাস): তথ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ শুরু
• সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ জরিপ পরিচালনা
• শহরে মোট অটো ও হকারের সংখ্যা নির্ধারণ করে ডিজিটাল রেজিস্ট্রি তৈরি
• নতুন অটো ও হকার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত
• অবৈধ দখল চিহ্নিত করে ডাটাবেজ তৈরি
ধাপ–২ (৬ মাস): সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা
• অটোর জন্য নির্দিষ্ট রুট ও সময়সূচি নির্ধারণ
• হকারদের জন্য পরিকল্পিত ‘হকার জোন’ চালু (সকাল ও সন্ধ্যায় আলাদা সময়সূচি)
• ফুটপাতকে শতভাগ পথচারীর জন্য সংরক্ষিত ঘোষণা
• ডিজিটাল মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম জোরদার
ধাপ–৩ (১ বছর): কঠোর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত
• নিয়ম ভঙ্গকারীদের লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা ও যানবাহন জব্দ
• রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের অপব্যবহার করলে কোনো ছাড় না দেওয়া
• নাগরিক অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি আধুনিক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। যে শহর তার ফুটপাত রক্ষা করতে পারে না, সে শহর কখনোই পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না।
সবশেষে গণসংহতি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মনে করে—ফুটপাত দখলমুক্ত করার সময় যদি কোনো শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তাদের পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও স্বল্পসুদে ঋণের মতো সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করা রাষ্ট্র ও সিটি কর্পোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব।
আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত চাই—আমরা চাই সুশৃঙ্খল, মানবিক ও পরিকল্পিত শহর। আমরা চাই নাগরিকের হাঁটার অধিকার নিশ্চিত হোক।