ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় ( প্রেসিডেন্ট রোড) থেকে মিছিল নিয়ে বিবি রোড প্রদক্ষিণ করে চাষাড়ায় বিজয় স্তম্ভে ফুলবাড়ী আন্দোলনের শহীদ আমিন,তরিকুল, সালেকিনদের স্মরন করে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন,
ফুলবাড়ী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগায়।
ফুলবাড়ীর দাবি ও চেতনা আজও অমলিন—জনগণের সম্পদ জনগণেরই থাকবে।
তিনি আরো বলেন,
আজ থেকে দুই দশক আগে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীর আপামর জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির হাত থেকে দেশের কয়লা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার ঐতিহাসিক লড়াই রচনা করেছিলেন। সেদিন শহীদ তরিকুল, সালেকিন ও আমিনের রক্তের বিনিময়ে তৎকালীন সরকার জনগণের সাথে ঐতিহাসিক ৬ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের বিষয়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ৬ দফা চুক্তি আজও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি।
এখন আবার জনস্বার্থ ও পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে এনে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে, যা ফুলবাড়ীসহ এ দেশের সচেতন জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন মানে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করা, কৃষিজমি ধ্বংস করা এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক আঘাত হানা।
আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিতে চাই—’উন্মুক্ত না, বিদেশি না, রপ্তানি না’—ফুলবাড়ী দিবসের এই ঐতিহাসিক স্লোগান ও চেতনা আজও অমলিন। জাতীয় সম্পদ নিয়ে কোনো প্রকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র হলে ফুলবাড়ীর আন্দোলনের পথ ধরেই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।