নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপু বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাঝেমধ্যে মুখোশ পরে গোপনে মিটিং করে। তাদের যদি সাহস থাকে, তবে মুখোশ খুলে রাজপথে আসুক; আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। নারায়ণগঞ্জবাসীকে আর জিম্মি করতে দেওয়া হবে না, ব্যবসায়ীদের ওপর আর কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।”
রবিবার (২১ জুন) রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল এক ‘শান্তি মিছিল’ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে টিপু বলেন, “দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা আর দুবাইয়ে বসে খুনি শামীম ওসমান, আজমিরী ওসমান যদি মনে করেন সেখান থেকে সুতো নাড়িয়ে আবারও নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী মিছিল করাবেন, তবে জিয়ার সৈনিকরা তা হাত গুটিয়ে বসে দেখবে না। আমরা প্রতিটি চক্রান্তের দাঁতভাঙা জবাব দেব।”
নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত আপনারা রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেবেন। যেখানেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা খুনি শামীম ওসমান ও আজমিরী ওসমানের গুণ্ডাবাহিনীকে পাবেন, তাদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করবেন। আমি নিজে পেলেও কাউকে ছাড় দেব না। নারায়ণগঞ্জকে আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক এবং ভূমিদস্যুমুক্ত এক শান্তির শহর হিসেবে উপহার দিতে চাই।”
আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “প্রতিদিন মাগরিবের পর আপনারা বিসিআই সমিতি কার্যালয়ে জমায়েত হবেন। আমরা প্রতিদিন রাতে মিছিল করব। বিশেষ করে ২৩ জুন সকাল থেকে আমরা পুরো শহরের রাজপথ দখলে রাখব। খুনি ও লুটেরাদের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না।”
অ্যাডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপুর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই শান্তি মিছিলটি নগরীর মিশনপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে উত্তর চাষাঢ়া, কলেজ রোড ও গলাচিপা এলাকা প্রদক্ষিণ করে ২নং রেলগেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সিটি কর্পোরেশনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেনসহ মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের শত শত নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে টিপুর এই নির্দেশনার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজপথে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।