বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির কোনো সদস্য নন বলে উল্লেখ করা হলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পদধারী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন বলে সংগঠনের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জোসেফ নামে কোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত নন।
তবে কেন্দ্রীয় যুবদলের এমন বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় বিভিন্ন ফোরামে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মহানগর যুবদলের তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী দাবি করেন, জোসেফকে বর্তমান কমিটির সদস্য না বলা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একজন পরিচিত মুখ।
তাদের ভাষ্যমতে, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক কমিটির ১ নম্বর সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা আরও দাবি করেন, মহানগরের ১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড, পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সদর থানা যুবদলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী এখনও জোসেফের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
নেতাকর্মীরা বলেন, “জোসেফ ভাই কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি নারায়ণগঞ্জের বিএনপিপন্থী ছাত্র ও যুব রাজনীতির একটি পরিচিত নাম। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে তিনি মাঠে ছিলেন। আজ তাকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তৃণমূলের কর্মীরা ব্যথিত।”
জোসেফের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তার অনুসারীরা জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক সফল সভাপতি। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে যুবদলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে থাকা অনেক নেতাই অতীতে তার নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল কমিটির অংশ ছিলেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে জোসেফের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও সামনে আনছেন তার সমর্থকরা। তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম তার আপন চাচা। এছাড়া তার বাবা ও চাচাসহ পরিবারের চার সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন বলে তারা দাবি করেন। জোসেফের বাবা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তার কারণে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জোসেফকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, যখন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না, তখন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর পথ বেছে নেওয়া হয়।
তারা কেন্দ্রীয় যুবদলের নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং নেতাকর্মীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।”
তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে জোসেফের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক শাস্তিমূলক অভিযোগ বা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কেবল বর্তমান কমিটিতে তার সদস্যপদ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা নেতাদের অবস্থান, সাংগঠনিক স্বীকৃতি এবং তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ ও অবস্থানের দিকে এখন নজর রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের।
তাদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকেও কোনো নেতা যদি দীর্ঘদিন তৃণমূলে প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা কঠিন। আর সেই কারণেই জোসেফকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।