জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের (UDCGP) সুফল ভোগ করছে নারায়ণগঞ্জবাসী। এই প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতেও নগরীর প্রধান সড়কগুলো জলাবদ্ধতামুক্ত ছিল।
শনিবার (নভেম্বর মাসের সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী) কক্সবাজারের হোটেল সিগালে আয়োজিত ‘বার্ষিক কর্মশালা ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন’ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জলাবদ্ধতা হলেও জাইকার প্রকল্পের কারণে নারায়ণগঞ্জে এর প্রভাব পড়েনি। বিশেষ করে ডিবি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে একবিন্দু পানিও জমেনি। গভীর ড্রেন নির্মাণের ফলে মানুষ এখন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে অনেকটাই মুক্ত। নাগরিকরা এই উন্নয়নের সুফল পাওয়ায় সিটি কর্পোরেশন তথা জাইকার কাজের প্রশংসা করছেন।”
বিবৃতিতে জানানো হয়, জাইকার সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে ৩২২.৫৯ কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলমান প্রকল্পগুলো অত্যন্ত দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে আমরা মানসম্মত কাজ বুঝে নেব, এতে কোনো আপস করা হবে না।”
জাপানকে একটি উন্নত ও নিষ্ঠাবান জাতি উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, “জাপান আমাদের উন্নয়নের অন্যতম বড় অংশীদার। তাদের কাজের মান, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা আমাদের ধারণ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই আমরা প্রতিটি প্রকল্প সফল করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাজের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কাজের এই মূল্যায়ন অনেকটা ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার মতো, যেখানে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। আমরা আশা করি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ সকল নগর সংস্থা তাদের সেবার মান বাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে।”
নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব তুলে ধরে এড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কক্সবাজারে যেমন প্রতিদিন লাখো পর্যটক আসেন, শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও পেশাজীবী মানুষ প্রবেশ করেন। দেশের অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জের অবদান অপরিসীম। তাই জাইকা ও এলজিইডির এই সহযোগিতা নগরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অনুষ্ঠানে জাইকা ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, একটি সুন্দর ও গোছানো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজক সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।