রফিউর রাব্বির জন্ম ১৯৫৮ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে। বাবা ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাহাদাত হোসেন, পেশায় চিকিৎসক। মা আনোয়ারা হোসেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল, তোলারাম কলেজ, চারুকলা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইস্কুয়েলা সুপিরিয়র নিকোলাস, হাভানায়। তবে তাঁর জীবনপাঠের মূল পাঠ তিনি নিয়েছেন প্রকৃতি, মানুষ ও মানবসভ্যতার বহমান কাল থেকে।
কৈশোর থেকেই শিল্প-সংস্কৃতি ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক আবহে একটি পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৬ সালে তিনি দেশের ও পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের লেখা নিয়ে নিজ সম্পাদনায় ‘রবিশ্বর্গ’ সংকলন প্রকাশ করেন। এটি তাঁর সম্পাদনায় প্রথম সংকলন।
রফিউর রাব্বি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করছেন। কবিতা দিয়ে লেখালেখির যাত্রা শুরু হলেও তাঁর বিচরণ মূলত প্রবন্ধ-সাহিত্যে। বেশ কিছু কবিতার অনুবাদও তিনি করেছেন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মানুষের চিরায়ত সংগ্রাম, দুঃখবোধ এবং মানুষে মানুষে ঐক্যবদ্ধতার কথা। তাঁর লেখার একটি বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে বহমান মানবজাতির কাব্যময় জীবনের উপাখ্যান এবং তার ইতিহাসবোধ।
রফিউর রাব্বি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের স্তরে স্তরে জমে থাকা ক্লেদ, বৈষম্য ও অচলায়তন অপসারণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে রওনক রেহানাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী ও রাকিব মুহাম্মদ সাকি। ২০১৩ সালে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
রফিউর রাব্বি বিভিন্ন গ্রন্থ ও সংকলন সম্পাদনা করেছেন। ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর চিত্রকলা বিষয়ক গ্রন্থ ‘ভিঞ্চি পিকাসো হুসেন সুলতান ও অন্যান্য’ এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘শিল্পের ঘরবসতি’। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ ‘নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য’ এবং প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বৃত্তের বাইরে’।
নারায়ণগঞ্জের স্বাধীনতাউত্তর ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে, বহুবিধ কর্মে জড়িয়ে রয়েছেন রফিউর রাব্বি। নারায়ণগঞ্জ আজ অনেকভাবে এগিয়ে রয়েছে। সারা বাংলাদেশে যখন নানা রকমভাবে অন্ধকার গ্রাস করছে, নারায়ণগঞ্জ তখন আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জে নানা রকমভাবে প্রদীপ প্রজ্বালন ঘটছে। আক্ষরিক অর্থে ঘটছে, বাস্তব অর্থেও ঘটছে। মানুষের অন্তরে এই প্রদীপ জ্বালানোর যে আয়োজন, সেটিও নারায়ণগঞ্জ নানা উপায়ে করে চলেছে।
মফিদুল হক
লেখক, গবেষক ও ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর