সোমবার (১২ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পনগরী। দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা বলেন, এনজিআরইউডিপি প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল শহর গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের কারণে স্থানীয় জলাশয়, বায়ুর গুণগত মান এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, পরিকল্পিত বনায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশের মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক ও পরিবেশবাদী প্রতিনিধিরা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। এ সময় নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দখল ও দূষণের কবলে থাকা খাল পুনরুদ্ধার এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিকদের সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনমত যাচাই সভায় উত্থাপিত যৌক্তিক মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এসব মতামত প্রকল্পের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নে কাজে লাগানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনগণের অংশগ্রহণ, পরিবেশগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানো গেলে নারায়ণগঞ্জকে আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।