মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জের ‘ক্লুলেস’ তানিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য ফাঁস, পিবিআইয়ের হাতে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার এস. আলম ইসরাৎ পুনরায় বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি মনোনীত ফতুল্লায় রেললাইনের পাশে কয়েক হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: এমপির কাছে বিকল্প সড়কের দাবি সম্প্রীতির টানে জামায়াত কার্যালয়ে রাজীব: অভিনন্দন জানালো শিবির নারায়ণগঞ্জ সদরের রাস্তা ও স্কুল পরিদর্শন সহ শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ করলেন ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন এসএসসি উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানালেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি নেতা রেজা রিপন নারায়ণগঞ্জে বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে আন্ত: শ্রেনী ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত টিসিবি ডিলারে আমাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই-দিপু এসএসসি উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানালেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. আতাউর রহমান জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্যকে সেলাই মেশিন উপহার দিল সদর উপজেলা প্রশাসন

সিদ্ধিরগঞ্জের ‘ক্লুলেস’ তানিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য ফাঁস, পিবিআইয়ের হাতে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ 🪪

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় গৃহবধূ তানিয়া আক্তারকে (২৪) শ্বাসরোধ করে হত্যার ১৫ দিনের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নারায়ণগঞ্জ জেলা। এই ঘটনায় জড়িত নিহতের স্বামী ঘাতক মোঃ সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দী প্রদান করেছে।

গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় আসামী সোহাগ মিয়া জুলহাস তার স্ত্রী তানিয়ার খালার বাসায় গিয়ে ঘরের চাবি দিয়ে জানায়, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে এবং ছুটি নিয়ে দুপুরে ফিরবে। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন তানিয়া সেদিন কাজে যায়নি। পরবর্তীতে বাসার তালা খুলে ভিতরে গিয়ে মশাড়ির ভেতর তানিয়ার রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি পিবিআই-এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদের (বিপিএম) তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত শুরু করেন।

তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক সোহাগ মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ভোর ৪:৫০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে গাইবান্ধা থেকে দূরপাল্লার বাসে করে নারায়ণগঞ্জে আসছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে আসামী স্বীকার করে যে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কের জেরে তারা বিয়ে করেছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই অভাব-অনটন এবং সোহাগের বেকারত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে সোহাগ রাগের মাথায় তানিয়ার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তানিয়ার নাক থেকে স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেয় সে এবং পরদিন সকালে খালাকে চাবি দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট জানায়, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাতককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102