নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে গত ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দিবসের কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পর, দুই সংগঠনের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীল রাজনীতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষে সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর মিশনপাড়াস্থ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ মহানগর সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম রাজীব। সেখানে তিনি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
ছাত্রদল নেতা রাজীব কার্যালয়ে পৌঁছালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান। এ সময় উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, “৫ আগস্ট আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে আসা এই অর্জিত স্বাধীনতায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। তোলারাম কলেজে ছোট্ট একটি কথা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহনশীল রাজনীতির পরিবেশ বজায় থাকুক। ভাইয়ে ভাইয়ে কোনো সংঘাত নয়, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা দেশ পুনর্গঠনে কাজ করব।”
এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান ছাত্রদল নেতার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির রাজপথে একসাথে লড়াই করেছে। আন্দোলনের সেই স্পিরিটকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। আজকের এই সাক্ষাৎ প্রমাণ করে যে, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বৈঠকে উভয় পক্ষই সরকারি তোলারাম কলেজসহ নারায়ণগঞ্জের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।