নারায়ণগঞ্জ উলামা পরিষদের সভাপতি ও ডিআইটি মসজিদের খতিব আল্লামা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, “পবিত্র আশুরার দিনে শিয়ারা ইসলামের নামে যে অপসংস্কৃতি চর্চা করে, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, আশুরার দিন জোহরের পর থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তা যেন শিয়াদের দখলে ছেড়ে দেওয়া না হয়। প্রশাসনকে অবশ্যই জননিরাপত্তা ও চলাচলের পথ সুগম রাখতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ মহানগর উলামা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা আব্দুল আউয়াল অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসনের পরোক্ষ সুযোগের কারণেই শিয়ারা রাস্তায় নেমে মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় এবং ইসলামের নামে ভুল সংস্কৃতি প্রচার করে। তারা ইসলামের দাবিদার হয়ে মুসলমানদের মূল সংস্কৃতি নষ্ট করছে। আপাতত আমাদের লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জকে এই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করা। যদি প্রশাসন এই অপসংস্কৃতি বন্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আমরা নিজেদের জানমাল বাজি রেখে রাজপথে নেমে তাদের প্রতিহত করব।”
তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদাহরণ টেনে বলেন, “হিন্দুরা যখন তাদের উৎসব পালন করে, তখন তারা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়। কিন্তু শিয়ারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাতায়াত বন্ধ করে দিতে পারে না। দেশ ও মুসলমানদের বাঁচাতে হলে এই সুযোগ বন্ধ করতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতী মামুন ফেরদাউসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতী মাহমুদুল হাসান কাসেমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মোহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, মাওলানা মূসা আল হাফিজ, অনৈসলামী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির আমীর আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী বশিরুল্লাহ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা উলামা পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল কাদির, মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সাধারণ সম্পাদক মুফতী জাকির হুসাইন কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলামসহ নারায়ণগঞ্জের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও কয়েকশ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
বক্তারা সম্মিলিতভাবে পবিত্র আশুরার মর্যাদা রক্ষা এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যেকোনো ধরনের বিদআতি কর্মকাণ্ড বা অপসংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।