আলোচনার শুরুতে বৈপ্লবিক চেতনার প্রতীক শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে আয়োজিত আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সংগঠক আহমেদ রবিন স্বপ্ন, সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রনেতা ইফতি আহাম্মেদ জিহাদ, কদমরসুল কলেজের ছাত্রনেতা আমির হামজা এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের ছাত্রনেতা লাগারথা লিথি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে ও স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক সংগ্রামের এক জ্বলন্ত প্রদীপ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে জীবন দিয়ে তিনি এদেশের তরুণ সমাজকে অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়ে গেছেন।পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে ক্ষুদিরাম বসু এবং তাঁর সহযোদ্ধা প্রফুল্ল চাকী অত্যাচারী বিচারক কিংসফোর্ডকে হত্যার দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেন।
এই ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়। ক্ষুদিরাম বসুর অসীম সাহস, দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নির্ভীক আত্মত্যাগ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং তা যুগের পর যুগ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে।
বর্তমান সময়েও সামাজিক বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনা ধীরে ধিরে বেড়েই চলছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হলে ক্ষুদিরামের মতো মানুষরা আমাদের সামনে পথপ্রদর্শক। তাই অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ক্ষুদিরামের বিপ্লবী আদর্শ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম লাল সালাম।