নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে ২ বছরের এক শিশুকে অপহরণ এবং ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। বিশেষ অভিযানে অপহৃত শিশু তাকরিমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারসহ দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সুজন মিয়া (৩১) ও মাজেদা (২৯)। তারা দুজনই ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার হাজী ইমান আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং অপহৃত শিশুর পরিবারের প্রতিবেশী।
ভুক্তভোগী মিম আক্তার ও তাঁর স্বামী তানজিম ৫/৬ মাস যাবৎ লামাপাড়া এলাকার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে সুজন ও মাজেদা একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে আসে। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তারা প্রায়ই মিম আক্তারের ঘরে যাতায়াত করত এবং তাঁর ২ বছরের একমাত্র সন্তান তাকরিমকে আদর করত। গত ১২ জুন সকাল ১১টার দিকে তারা শিশুটিকে আদর করার কথা বলে কৌশলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মিম আক্তার যখন সবখানে খুঁজছিলেন, ঠিক তখন ১৪ জুন রাত ১টা ৫৩ মিনিটে একটি ইমু আইডি থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। অপহরণকারীরা ফোনে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে হুমকি দেয়, “তোর বাচ্চা নিতে পারবি ১ লাখ টাকা লাগবে, নাটক করবি তো লাশ পেয়ে যাবি।”
সন্তানের প্রাণের ভয়ে মিম আক্তার দ্রুত ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে অবহিত করা হলে তাঁর নির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের তত্ত্বাবধানে অভিযানে নামে পুলিশ। এসআই আশীষ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় র্যাবের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান চালায়। ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফতুল্লার চাষাড়া এলাকা থেকে শিশু তাকরিমকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সুজন ও মাজেদাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে অপহৃত শিশুকে ফিরে পেয়ে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।