বহু বছরের অসহনীয় যানজট থেকে অবশেষে মুক্তির স্বাদ পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। শহরের প্রধান সমস্যা হিসেবে পরিচিত যানজট নিরসনকে একসময় অসম্ভব মনে করা হলেও, সম্মিলিত উদ্যোগে তা অনেকটাই নিরসন করে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এ দুই কর্মকর্তার সমন্বিত উদ্যোগ এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
জানা যায়, যোগদানের পর থেকেই পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। একের পর এক সফল অভিযানে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। যানজট প্রসঙ্গে তিনি শুরু থেকেই বলে আসছিলেন, যানজট নিরসন একার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।
তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এক কাতারে আসেন। বিশেষ করে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান যানজট নিরসনে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসনে প্রতিদিনই সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ টিম অক্লান্তভাবে কাজ করছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট – চাষাঢ়া, কালীরবাজার, মেট্রো হল মোড়, ২নং রেলগেট ও মন্ডলপাড়া এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই টিম দায়িত্ব পালন করছে। অপরদিকে পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাসহ সকল ট্রাফিক সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে মাঠে রয়েছেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেওয়ায় এই কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে।
যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ। নম্বর প্লেটবিহীন ও অনুমোদনহীন অটোরিকশা শহরে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় প্রধান সড়কগুলোতে এখন আর আগের মতো দীর্ঘ জট লাগছে না। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিদিনই ফুটপাত ও রাস্তার ওপর অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান এবং অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ছিল এই যানজট। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমেই নগরবাসীর এই কষ্ট লাঘবে কাজ শুরু করি। আমরা কোনো উচ্ছেদ নয়, শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং অটোরিকশাকে একটি নিয়মের মধ্যে আনা – এই তিনটি বিষয়ে আমরা জোর দিয়েছি। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই যানজট নিরসন সম্ভব হয়েছে। আমরা শহরবাসীকে একটি শৃঙ্খল ও নিরাপদ সড়ক উপহার দিতে চাই। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, তবে নগরবাসীর সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
নগরবাসী জানান, আগে চাষাঢ়া থেকে ২নং রেলগেট যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো। এখন ৫-১০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। যানজট নিরসনে প্রশাসনের এমন উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি তারা। অনেকের মুখে এখন একটাই কথা – প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যৌথভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন । নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এই যানজট নিরসনের কারনে।