নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডকে পুরো শহরের মধ্যে একটি পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেছেন, “আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর নগর পরিবেশ চাই, যেখানে রোগ-জীবাণু থাকবে না এবং আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে।”

শনিবার সকালে সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক শক্তি’র উদ্যোগে ১৩ নং ওয়ার্ডের গলাচিপা ও মাসদাইর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ও সড়কের বেহাল দশার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব এবং দুর্গন্ধ সহ্য করায় এলাকাবাসীর প্রতি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি ঘোষণা দেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই এলাকার রূপার বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে ভোগান্তি নিরসন করা হবে।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডকে সিটি করপোরেশনের বিশেষ ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন, মশামুক্ত ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে ময়লা ফেলার পাত্র (ডাস্টবিন/বিন) সরবরাহ করা হবে। এলাকার সমাজকর্মীদের সহায়তায় কোন বাড়িতে কত লিটারের বিন প্রয়োজন, তা অ্যাসেসমেন্ট করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পানির সমস্যা লাঘবে প্রশাসক জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই ওয়ার্ডে ৫টি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ যেখানে বসবাস করেন, সেখানে সরকারি জায়গা নির্ধারণ করে এসব পাম্প স্থাপন করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা (JICA) থেকে পাওয়া ১৫০টি সাবমার্সিবল পাম্পের মধ্য থেকে বড় ওয়ার্ড হিসেবে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান।

মাদক ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, কর্নেল হুমায়ুন সাহেবের নেতৃত্বে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যে সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদ, স্থানীয় সমাজসেবক পটু, শাহ আলম, সাংবাদিক আলমগীর, কর্নেল রিপন, বিপুলসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যক্তিগত স্মৃতি চারণ করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমি নিজেও একসময় এই এলাকায় বসবাস করেছি। তাই এই এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি এলাকার ওপর কোনো অন্যায় চাপিয়ে দিতে পারবে না।” পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক এই কর্মসূচি আয়োজনের জন্য তিনি ‘নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ’ এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।