ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসন, বাস মালিক এবং শিক্ষার্থী ও যাত্রী প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় টানা চার ঘণ্টা ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া ৩৪ টাকায় নির্ধারণে ঐকমত্য হলেও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষ। ফলে ভাড়া সংক্রান্ত অচলাবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে প্রথম দফার বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় আজকের এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনার প্রথম এক ঘণ্টার মাথায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে সমঝোতা হয়। গত বৈঠকে শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়া ৩৪ টাকা এবং মালিকপক্ষ ৩৫ টাকা দাবি করেছিল। আজকের বৈঠকে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ভাড়া ৩৪ টাকায় নির্ধারণের বিষয়ে সবাই একমত হন। তবে সংকটের সৃষ্টি হয় সাধারণ যাত্রীদের ভাড়াকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিষ্পত্তির পর টানা তিন ঘণ্টা সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ ও আলোচনা চললেও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থানে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। ফলে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার বৈঠক শেষেও সাধারণের ভাড়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই একতরফাভাবে বাসভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে দেয় উৎসব ও বন্ধন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা আদায় শুরু হলে সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন রাজপথে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে বর্ধিত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠকে বসলেও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান এলো না।
বৈঠক শেষে যাত্রী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, সাধারণ যাত্রীদের ওপর অযৌক্তিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া বাড়তি ভাড়া প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ সরকারি খরচের হিসাব তুলে ধরে বর্তমান ভাড়াকে যৌক্তিক দাবি করায় বিষয়টির সুরাহা করতে প্রশাসনকে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।







