সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবের আবহকে সুরের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছে ‘খুশির চিঠি’। গানটির কথা, সুর, সংগীতায়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছেন অরিন্দম পাল ঝিনুক নিজেই। পাশাপাশি গানটির ভিজ্যুয়াল কনসেপ্ট, ভিডিও সম্পাদনা ও পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
গানটি প্রসঙ্গে অরিন্দম পাল ঝিনুক বলেন, “শরতের আগমন আর দুর্গোৎসব মানেই নতুন এক আনন্দের বার্তা। ‘খুশির চিঠি’ মূলত সেই আনন্দ বার্তারই এক সুরেলা দলিল। গানটির মাধ্যমে আমি উৎসবের চিরন্তন আবেগ ও ভালোবাসাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশা করি, এই গানটি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেবে এবং পূজার আমেজকে আরও রঙিন করবে।”
গানটির অডিও ও ভিডিও প্রডাকশনে রয়েছে APJ Creation। পোস্ট প্রডাকশনের কাজ সম্পন্ন করেছে Monchobi Production। লোকজ ও আধুনিক সুরের মেলবন্ধনে নির্মিত মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ছে।
অরিন্দম পাল ঝিনুক একাধারে সংগীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, কবি, নাট্যনির্দেশক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। পেশাগত জীবনে তিনি ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন। দীর্ঘ দুই দশকের সৃজনশীল অভিযাত্রায় গান, কবিতা, মঞ্চনাটক, মূকাভিনয়, প্রামাণ্যচিত্র ও টেলিভিশন নাটকে তিনি কাজ করেছেন।
সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘দে ছুট’ (২০০৯) ও ‘মেঘপরী’ (২০১৪)। তাঁর প্রকাশিত একক গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গল্পগুলো হয়নি বলা’, ‘ওরে নদী’, ‘নদীর পাশে একা’, ‘নূতন রোদ’, ‘নীল ইথারের ওপারে’, ‘পাতার আড়ালে’, ‘বিষাদে ছেয়েছে ফুল’, ‘এই পৃথিবীর রঙ-রূপ’, ‘প্রিয় জাফলং’ এবং সর্বশেষ ‘খুশির চিঠি’।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে ‘আমার দেশের লাগি’ মঞ্চনাটক নির্দেশনার মাধ্যমে তাঁর নাট্যনির্দেশনায় আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে ‘রুদ্র আবার বঙ্গ’, ‘তোতা কাহিনী’, ‘ভুক-ভুজঙ্গ’, ‘আসাদের শার্ট’ ও ‘টেকা’সহ বিভিন্ন পথনাটক ও মঞ্চনাটক পরিচালনা করেন তিনি।
মূকাভিনয়েও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ। ‘চক্র’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘ভার্চুয়াল লাভ’, ‘অ্যা বেলুন সেলার অ্যান্ড অ্যা বয়’, ‘দ্যা ওয়্যার’ ও ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এর মতো দলীয় মূকাভিনয় প্রযোজনা নির্মাণ করেছেন তিনি। জীবনীভিত্তিক প্রযোজনা ‘নদী নক্ষত্র মানুষ’ ও ‘অগ্নিযুগের এক সূর্য ও শেষ চিরকুট’ও তাঁর সৃজনশীল কাজের উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
নির্মাতা হিসেবেও অরিন্দম পাল ঝিনুকের রয়েছে বৈচিত্র্যময় কাজ। ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত তাঁর প্রামাণ্যচিত্র ‘আলোর মিছিল’ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যাল ২০১৪-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয়। তাঁর নির্মিত থ্রিডি অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম ‘টোকাই’ ন্যাশনাল শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয়।
২০১৪ সালে জীবনানন্দ দাশের ১১টি কবিতা অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করেন ভিজ্যুয়াল ফিকশন ‘একদিন বনলতা সেন’। এছাড়া ‘পিঁপড়া দর্শন ও একজন মোশারফ রোজ’ তথ্যচিত্র এবং ওয়ান-শট মিউজিক্যাল ভিডিও ‘আমি যে রিক্সাওয়ালা’ তাঁর নির্মিত উল্লেখযোগ্য কাজ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক থ্রিডি ফার্স্ট-পারসন শুটার গেম ‘গেরিলা ৭১’-এর গল্প, চিত্রনাট্য ও নির্দেশনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর নির্মিত বিশেষ টেলিফিল্ম ‘হঠাৎ বৃষ্টি এলো’ প্রচারিত হয়েছে আরটিভিতে।
সাহিত্যচর্চাতেও রয়েছে তাঁর সক্রিয়তা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দৃশ্যকাব্যের লিরেটো’ ২০২৭ সালের বইমেলায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধ ও ছোটগল্পও লিখছেন।
সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম ‘মনছবি’, ভার্চুয়াল মার্কেটিং এজেন্সি ‘ক্রিকি ক্রিয়েটিভ’ এবং শিশুদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে ‘নন্দনকানন’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত অরিন্দম পাল ঝিনুক। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি শিশু একাডেমি, নতুন কুঁড়ি, ইউনেস্কো পুরস্কার ও শিল্পকলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ শতাধিক জাতীয় সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন বলে তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।