শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে নানা আয়োজনে জুলাই শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই শহীদ দিবস নারায়ণগঞ্জে জুলাই শহিদদের প্রতি জেলা পুলিশের গভীর শ্রদ্ধা নারায়ণগঞ্জে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ‘মনিটরিং সেল’ গঠনের দাবি জামায়াত নেতা আবদুল জব্বারের বন্দর থানা প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত “জুলাই শহীদদের রক্তের দাবিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে” — মুমিনুল হক সরকার জুলাই হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে: এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব  ৫০ হাজার মানুষের কান্না ছুঁয়ে দিলেন সজীব: জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তির ছোঁয়া ফতুল্লায় ১৬টি দেশীয় অস্ত্রসহ কুখ্যাত ছিনতাইকারী রাশেদ গ্রেপ্তার ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই: শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করলেন মহানগর বিএনপি নেতা রেজা রিপন মদনগঞ্জে কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল

নারায়ণগঞ্জে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ‘মনিটরিং সেল’ গঠনের দাবি জামায়াত নেতা আবদুল জব্বারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯ 🪪
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ধরে রাখতে এবং আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।
​নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই দাবি জানান। সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
​মাওলানা আবদুল জব্বার তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।  ঢাকা বিভাগের পর নারায়ণগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন ও রক্ত দিয়েছেন। তাই শহীদ পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি এবং সার্বিক অবস্থা তদারকি করতে জেলা প্রশাসনের অধীনে একটি স্থায়ী ও নিয়মিত ‘মনিটরিং সেল’ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শহীদ পরিবারের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাকরির ন্যূনতম সংস্থান করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনেক ভুক্তভোগী মামলা বা আইনি জটিলতার কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ২৯ জন খালাস পেলেও জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) নিকট সেই  তথ্য না থাকার সমালোচনা করে তিনি একে “ভয়াবহ বিষয়” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত সমন্বয়হীনতা দূর করার তাগিদ দেন।
আলোচনা সভায় বেশ কিছু শহীদ পরিবারকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে ধরে তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই যেন শহীদ পরিবারের প্রতি অবহেলা বা বৈষম্য না করা হয়।
​বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন “আমরা যদি দুই দিনের মাথায় জুলাই আন্দোলনের শহীদদের ভুলে যাই, তবে তা হবে চরম দুর্ভাগ্যজনক। এটি বর্তমান প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ভুক্তভোগীদের আস্থার সংকট দূর করতে হবে এবং প্রতিটি শহীদ পরিবারের সম্মান সুনিশ্চিত করতে হবে।”
​বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল—সবারই মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি স্বৈরাচারমুক্ত ও একনায়কতন্ত্রহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে গণভোট বা জনগণের মতামতের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন থাকবে। গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন হবে। সরকার এক্ষেত্রে জনরায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে।
​তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্লেখ করেন যে, এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগীরা জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। এই ধরনের হুমকির অবসান ঘটিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102