ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বিবৃতিতে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন বলেন, “১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও রক্তস্নাত দিন। এই দিনে রংপুরে আবু সাঈদ যেভাবে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ছিল মূলত সতেরো বছর জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। আবু সাঈদের সেই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামার সাহস যুগিয়েছিল। তাঁর রক্তে রঞ্জিত রাজপথই আজ আমাদের একটি নতুন ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবে যারা রাজপথে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের এই অভাবনীয় আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথও রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। অসংখ্য ছাত্র ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জাতি চিরকাল এই বীর সন্তানদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।”
বিবৃতিতে বিএনপি নেতা রিপন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল, সেইসব ফ্যাসিস্টদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই আমরা তাদের আত্মার প্রকৃত শান্তি নিশ্চিত করতে পারি।”
পরিশেষে তিনি সকল শহীদদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি দেশবাসীকে শহীদদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।