নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের বিশাল জনপদ এখন যেন এক বিমূর্ত হাহাকার। টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বারগাঁও, কাজীপাড়া, খিদিরপুর, বড় ভিটা, বাঘাপাড়া, চিরিপাড়া, বটপড়া, বাদামতলা ও বেরিবাঁধ এলাকা। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আজ নিজ গৃহেই বন্দী। রান্নাঘরে পানি, উঠানে মাছের আনাগোনা এক কথায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এমন চরম সংকটের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সুযোগ্য সন্তান খায়রুল ইসলাম সজীব।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হাঁটুপানি ভেঙে মানুষের দুয়ারে পৌঁছান সজীব। এ সময় এলাকার মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টের চিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
উপস্থিত হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সজীব বলেন, আপনারা এই যে পানির মধ্যে কষ্ট করছেন, প্রতিটি মুহূর্ত আপনাদের এই দুর্ভোগ আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্যই আমাদের রাজনীতি। আপনাদের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব না। বিশ্বাস রাখুন, আজই আমরা চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেছি, অচিরেই আপনারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
তার এই মায়াবী ও আন্তরিক আশ্বাস যেন দুর্গত মানুষের মনে এক চিলতে আশার আলো জাগিয়েছে। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয়দের সাথে নিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি করেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি কেবল পরিদর্শনে আসেননি, এসেছেন মানুষের চোখের পানি মোছার অঙ্গীকার নিয়ে। মানুষের কষ্ট লাঘবই যে তার একমাত্র লক্ষ্য, তা তার প্রতিটি কথা ও কাজে স্পষ্ট।
পরিদর্শনকালে খায়রুল ইসলাম সজীবের সাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রেড-৪) মাহবুব মাওলা, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক পাম হাউস) মো. আশরাফুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ মিঠু, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াছিন নোবেল, আমির হোসেন, যুবদল নেতা সোহেল রানা, সুমন, রোকন এবং সংসদ সদস্যের বিশেষ সহকারী সেলিম হোসেন দিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এখন শুধুই অপেক্ষার পালা, কবে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে সাদিপুরের হাজারো মানুষ। মানুষের কষ্ট লাঘবই যে মূল অঙ্গীকার, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।