বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক মিঠুন মিয়া’র শশুর ইন্তেকাল করেছেন  হয়রানি করলে ছাড় নেই: একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসপি মিজানের ব্যবস্থা সর্বমহলে প্রশংসিত মন্ত্রী আসেন, তৎপরতা বাড়ে, তারপর? — আসমাউল হুসনা ডা. জোবাইদা রহমানের ৫৫তম জন্মদিন: শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন বিএনপি নেতা রেজা রিপন তরুণরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে: নাসিক প্রশাসক চানামারিতে শাহজালাল হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলোজি পরীক্ষার শুভ উদ্বোধন সাংবাদিক তানভীর হোসেন-এর মায়ের মৃত্যুতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার শোক  সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মাতৃবিয়োগে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর গভীর শোক তানভীর হোসেনের মায়ের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির গভীর শোক প্রকাশ সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মায়ের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে)র শোক

পরকীয়ার কাঁটা সরাতে ফতুল্লায় সুমন হত্যা: নাটকীয় ভাবে রহস্য উদঘাটন, প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬২ 🪪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা (৩৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহতের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রেমিকসহ মোট ৬ আসামিকে গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ১ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানাধীন চর কাশিপুর মধ্য নরসিংহপুর এলাকায় হারুন মিয়ার পরিত্যক্ত জায়গার সামনের ইটের সলিং রাস্তা থেকে সুমন খলিফার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন খলিফা বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া থানার আন্দারমানিক গ্রামের মো. মন্টু খলিফার ছেলে। তিনি স্ত্রীসহ সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইয়াছিন আরাফাতসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম ভোলা, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও নিহতের স্ত্রীর প্রেমিক মো. মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফ (৪২)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে বাকি আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসান ও নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, নিহত সুমন বেকার ছিলেন এবং তার স্ত্রী সোনিয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সংসার চালাতেন। প্রায় দুই মাস আগে গানের সূত্রেই মেহেদী হাসানের সাথে সোনিয়ার পরিচয় হয়। অভাব-অনটনের কারণে টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি সুমন জেনে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। পথের কাঁটা সরাতে এবং প্রেমিককে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে সোনিয়া ও মেহেদী মিলে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩০ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার পঞ্চবটি অ্যাডভাঞ্চার পার্কের সামনে একটি ক্লাবে গান গাইতে যান সোনিয়া ও সুমন। রাত ১১টার দিকে মেহেদী হাসানের সহযোগী মামুন কৌশলে সুমনকে ক্লাব থেকে ডেকে বের করে নিয়ে আসেন। এরপর টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে সিএনজিতে তুলে তাকে চর কাশিপুরের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছামাত্রই ওৎ পেতে থাকা আসামি আব্দুর রহমান সুইচ গিয়ার দিয়ে সুমনকে আঘাত করেন। সুমন পালানোর চেষ্টা করলে প্রেমিক মেহেদী হাসান ও বিল্লাল হোসেন তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর মামুন চাপাতি দিয়ে সুমনের গলায় ও শরীরে একাধিক কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা পাশের ডোবায় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি এই ত্বরিত পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102