বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্তরের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদের জেলা সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তারিকুল সুজন, মহিলা পরিষদের জেলা সংগঠক শাহানারা বেগম এবং সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর শাসনামলে সাড়ে ১১ বছর বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। ওই সময়ে ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিল। তখন বিএনপির অনেকেই এই ওসমান পরিবারের সহযোগী হয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই ওই পরিবারের মঞ্চে উঠেছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলেও ওই সময়ে তাদের সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তাঁর অভিযোগ, ওসমান পরিবার বিদেশে থেকে তাদের মাধ্যমে ত্বকী হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। তারা তদন্তকারী সংস্থাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে রফিউর রাব্বি বলেন, আপনার দলের মধ্যে যারা ওসমান পরিবারের ছায়া হয়ে কাজ করছেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের বিষয়ে খোঁজ নিন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ১০৬টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও এখনো অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়ে বিচারকাজ শুরু করা হয়নি। কারা এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রফিউর রাব্বি বলেন, “আমরা সুশাসন চাই, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই, বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন চাই।”
সমাবেশে বক্তারা ত্বকী হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং ক্যাডার শাহ নিজামসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানান।
এ ছাড়া ত্বকী হত্যাসহ সাগর-রুনি, তনু এবং নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের দ্বারা সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন বক্তারা।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।
ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখে আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।