আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখা-এর আহ্বায়ক মৌমিতা নূর এবং সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাত আজ সম্পূর্ণভাবে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের একচেটিয়া অনৈতিক সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের মালিকরা সাধারণ মানুষের পকেট কেটে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হঠাৎ করেই ভাড়া বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪০ টাকা করে আদায় শুরু করেছিল। কিন্তু সচেতন ছাত্র-জনতা তা মেনে নেয়নি। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার মাঠপর্যায়ের কঠোর আন্দোলন ও তদারকির মুখে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে এবং আগের ভাড়া ৫৫ টাকা ও শিক্ষার্থীদের ৩৫ টাকা বহাল রাখতে বাধ্য হয়েছে।
ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার দুঃসাহস দেখালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা প্রাইভেট বাস সিন্ডিকেটকে বারবার বেপরোয়া করে তুলছে। অবিলম্বে উৎসব ও বন্ধনের এই সিন্ডিকেটের স্থায়ী লাগাম টানতে হবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-এর পক্ষ থেকে পরিবহন খাতের এই বিশৃঙ্খলা রুখতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে নিম্নলিখিত ২ দফা দাবি পেশ করা হয়:
১. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া কোনোভাবেই ৫৫ টাকার বেশি নয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রকার অজুহাত ও শর্ত ছাড়াই প্রকৃত হাফ পাস অর্থাৎ ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ও চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে হবে।
২. যাত্রী সাধারণের যাতায়াত সহজ করতে এবং প্রাইভেট বাস সিন্ডিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য ও জিম্মিদশা স্থায়ীভাবে ভাঙতে নারায়ণগঞ্জ রুটে সরকারি বিআরটিসি (BRTC) বাসের সংখ্যা অবিলম্বে বৃদ্ধি করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ হাফ পাস (৩০ টাকা) দেওয়ার যৌক্তিক দাবি চূড়ান্তভাবে মেনে নেওয়া না হয় এবং বিআরটিসি বাস বাড়ানোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের চাকা বন্ধসহ নারায়ণগঞ্জজুড়ে তীব্র গণ-আন্দোলন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।