শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় আওয়ামী লীগের তথাকথিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সেই গণরায়কে নস্যাৎ করতে এবং দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই রাজপথে থেকে প্রতিহত করবে।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিয়ে রাজীব বলেন, “বাসে অগ্নিসংযোগসহ যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে সজাগ পাহারা বসিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে কোনো নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।”
দলীয় শৃঙ্খলা ও সংযত আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেও কখনো উসকানিমূলক আচরণ করেননি। তাঁর আদর্শের কর্মী হিসেবে প্রতিটি নেতাকর্মীকে আচার-আচরণ, বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা দল ও সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।”
সমাবেশ শেষে নগরীর মিশনপাড়া হোসিয়ারি সমিতির সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক চাষাঢ়া ও কালীবাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হোসিয়ারি সমিতির কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, সদর থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রানা মুজিব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, বিএনপি নেতা মোক্তার হোসেন ভুঁইয়া, জুয়েল প্রধান, টি এইচ তোফা, বাবুল প্রধান, জিলানী ফকির, আরিফুল ইসলাম আরিফ, শ্যামল ছাত্রনেতা খায়রুল কবির মুন্নাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।