দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী অধিকার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রব রবিন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ শ্রমিকরা চাকরি হারানোসহ চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আব্দুর রব রবিন বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে দিনের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ থাকছে। এতে করে মালিকপক্ষ যেমন সময়মতো পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না, তেমনি এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। কাজ না থাকলে শ্রমিকদের ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন করে তুলেছে।”
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পোশাক খাত। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে কারখানার বয়লার ও জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কারখানায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক নেতা আব্দুর রব রবিন আরও বলেন, “উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অজুহাতে অনেক কারখানা লে-অফ (Lay-off) বা বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কাজ হারিয়ে রাস্তায় বসা মানে শ্রমিক পরিবারের জন্য মরণফাঁদ। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।”
বিবৃতিতে তিনি সরকারের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশে তিনটি জরুরি দাবি উত্থাপন করেন:
১. পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা।
২. গ্যাস সংকটের অজুহাতে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই বা কারখানা বন্ধ না করা।
৩. ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ প্রণোদনা বা বিকল্প জ্বালানি সহায়তার ব্যবস্থা করা।
পরিশেষে আব্দুর রব রবিন বলেন, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে হলে কেবল আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।