নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু’র বিরুদ্ধে ‘মৌমিতা পরিবহন’ থেকে মাসিক এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এই ভুয়া তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চাঁদাবাজির এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আমিনুর রহমান এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অ্যাডভোকেট টিপু’র বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এটি একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা মাত্র। আমরা এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাই।”
এদিকে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন মহানগর বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, বিগত দিনে আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে রাজপথে সাহসিকতার সাথে অবস্থান নেওয়ার কারণে অ্যাডভোকেট টিপুকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রামে টিপু’র সক্রিয় ভূমিকা একটি মহলের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এই নোংরা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্য এই বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো আইনজীবী বা রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, “অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি ভুক্তভোগী দাবিদার প্রতিষ্ঠান নিজেই এটি অস্বীকার করেছে। ফলে এটি স্পষ্টতই মানহানিকর। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।”
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “ছাত্রজীবন থেকেই আমি আদর্শের রাজনীতি করছি। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং ওসমান পরিবারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলাম বলেই আজ আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। মৌমিতা পরিবহনের জিএম নিজেই যখন মিথ্যার অবসান ঘটিয়েছেন, তখন আর বলার কিছু থাকে না।”
তিনি আরও এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, **“আমি একজন আইন পেশার মানুষ। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তবে আমি আজই রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে বা আমার দলকে দুর্বল করা যাবে না।”**
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মহানগর বিএনপির ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইছে। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা দলীয় কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না বরং রাজপথের ত্যাগী নেতাদের প্রতি জনসমর্থন আরও বাড়বে।