সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল নগরী গড়তে নাসিক’র জনমত যাচাই সভা নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়তে হলে এখনই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন খানপুর হাসপাতালে ৩৭০০-এর বেশি ডেঙ্গু টেস্ট কিট হস্তান্তর চাষাড়ার যানজট নিরসনে দৃশ্যমান স্বস্তি: প্রশাসনের পাশাপাশি যাঁর সক্রিয় ভূমিকা, তিনি আহমেদুর রহমান তনু ২৮ নভেম্বর তোলারাম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী, নিবন্ধন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ দাবি: আপিলের ঘোষণা আনোয়ার প্রধানের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার প্রধান ও রিফাতের পদ স্থগিত সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ সিটি নারায়ণগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, আসছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত অর্থায়নে সাদিপুরবাসীর জন্য সড়ক সংস্কার করেছি,অপপ্রচারের নিন্দা জানাই: চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার 

নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে ইডি কর্মচারী সামিয়ার দাপট: জিম্মি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০৯ 🪪

 নারায়ণগঞ্জ সদর প্রধান ডাকঘর এখন এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। আর এই আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সামিয়া ইসলাম নামে এক দৈনিক ভিত্তিক (ইডি) কর্মচারী। চাকুরিতে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খোদ পোস্টমাস্টারের ছত্রছায়ায় তিনি পুরো ডাকঘর নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্রমতে জানা যায়, গত জুন ২০২৬ থেকে সামিয়া ইসলাম মাসদাইর সাব পোস্ট অফিসে ইডি (ডেইলি বেসিস) কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পান। তবে নিয়োগের পর থেকেই তিনি প্রেষণে (সংযুক্তি) নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে কর্মরত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকুরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি ডাকঘরের প্রচলিত নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে হেল্প ডেস্কে বসার সুবাদে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর পোস্ট অফিসে নতুন পোস্টমাস্টার হিসেবে মো. আব্দুর রাজ্জাক (শিক্ষানবিশ) যোগদানের পর সামিয়ার দৌরাত্ম্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ উঠেছে, পোস্টমাস্টারের পরোক্ষ সহযোগিতায় সামিয়া সরকারি সেবাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন। ফরম পূরণ, ফরম বিক্রি, সাধারণ ও মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ভাঙানো, মৃত দাবি (ডেথ ক্লেম) নিষ্পত্তি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন এবং ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজগুলো তিনি চুক্তির বিনিময়ে ‘দালাল’ হিসেবে সম্পাদন করেন। লেটার হেড রাইটারগণ এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও পোস্টমাস্টার আব্দুর রাজ্জাক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সামিয়ার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাননি খোদ ডাকঘরের সহকর্মীরাও। অভিযোগ রয়েছে, পোস্ট অফিসে স্থায়ী চাকুরি দেওয়া এবং বিদেশে পাঠানোর নাম করে তিনি সহকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিষয়ে অতি সম্প্রতি একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সামিয়া টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর প্রদান করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কর্মচারী জানান, সামিয়ার ভয়ে তারা তটস্থ থাকেন।

সাধারণ কর্মচারী হয়েও সামিয়া ইসলামের এতো দাপটের কারণ হিসেবে জানা গেছে, তিনি প্রায়শই ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে তার সখ্যতার কথা জাহির করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে তিনি অফিসের পরিবেশ ভারী করে রাখেন, যার ফলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর পোস্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত ডাকসেবা নিশ্চিত করতে সামিয়া ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় ডাক বিভাগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102